বিছনাকান্দি
Bichanakandi
গোয়াইনঘাট, সিলেট
অনলাইন সূত্রে হালনাগাদ: ৬ অক্টোবর ২০২৬
সিলেটের গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুর ইউনিয়নে ভারত সীমান্ত ঘেঁষে বিছনাকান্দি। মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড়ের কয়েকটি ভাঁজ এখানে এসে মিলেছে, পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির ধারায় বিছানার মতো ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পাথর। হাদারপার থেকে নৌকায় যেতে হয়।
কী কী দেখবেন
৪টি জায়গা- পাথরের বিছানা ও স্বচ্ছ পানি
পাহাড়ি ধারায় নেমে আসা পাথর বিছানার মতো ছড়ানো, তার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঠান্ডা স্বচ্ছ পানি। নামটাও এসেছে এখান থেকে।
মূল আকর্ষণ - মেঘালয়ের পাহাড় ও ঝর্ণা
সীমান্তের ওপারে সবুজ খাসিয়া পাহাড় আর বর্ষায় পাহাড় বেয়ে নামা ঝর্ণা। মেঘ নেমে আসে পাহাড়ের গায়ে।
মূল পয়েন্ট থেকে দেখা যায় - পিয়াইন নদীতে নৌকাভ্রমণ
হাদারপার ঘাট থেকে ইঞ্জিন নৌকায় প্রায় ৪০ মিনিট। দুপাশে পাহাড় আর গ্রাম দেখতে দেখতে যাওয়া যায়।
হাদারপার থেকে - পান্তুমাই ঝর্ণা
একই নৌকা রিজার্ভ করে বিছনাকান্দির সঙ্গে পান্তুমাই ঝর্ণাও ঘুরে আসা যায়। ঝর্ণাটি ভারতের ভেতরে, দেখা যায় সীমান্ত থেকে।
নৌকায়, একসঙ্গে ঘোরা যায়
যাবেন কীভাবে
সিলেট শহর থেকে
- সিএনজি (শেয়ারে)আম্বরখানা থেকে হাদারপার বাজার, ২ – ২.৫ ঘণ্টাভাড়াজনপ্রতি ৳১২০ – ১৬০
- সিএনজি রিজার্ভআম্বরখানা থেকে হাদারপার, দরদাম করে নিনভাড়া৳১,০০০ – ১,৫০০
- নৌকা (শেয়ারে)হাদারপার ঘাট থেকে বিছনাকান্দি, প্রায় ৪০ মিনিটভাড়াজনপ্রতি ৳৫০
- নৌকা রিজার্ভ১০ – ১২ জন বসা যায়; পান্তুমাইসহ নিলে ৳১,৫০০ – ২,০০০ভাড়া৳৮০০ – ১,৫০০
ঢাকা থেকে সিলেট
- বাস৬ – ৮ ঘণ্টা, নন-এসি ও এসিভাড়া৳৫৮০ – ১,৫০০
- ট্রেন৬ – ৮ ঘণ্টা, শ্রেণিভেদে ভাড়াভাড়া৳৪১০ – ১,৪৬৫
ভাড়া আনুমানিক, সময় ও মৌসুমভেদে বদলায়। রিজার্ভ গাড়ি বা নৌকার ভাড়া আগে ঠিক করে নিন।
কখন যাবেন
- জানু
- ফেব্রু
- মার্চ
- এপ্রিল
- মে
- জুন
- জুলাই
- আগস্ট
- সেপ্টে
- অক্টো
- নভে
- ডিসে
পাহাড় থেকে পানি নামে সবচেয়ে বেশি, ঝর্ণা আর সবুজে বিছনাকান্দির আসল রূপ দেখা যায়। তবে স্রোতও এ সময় প্রবল।
পানি অনেক কমে যায়, পাথর তোলার কাজ ও পাথরবাহী যানের চলাচল বাড়ে। এ সময় সৌন্দর্য কম।
খরচ (সিলেট থেকে, জনপ্রতি)
- সিএনজি শেয়ারে (আসা-যাওয়া)৳২৪০ – ৩২০
- নৌকা (রিজার্ভ ৳৮০০ – ১,৫০০, ১০ জনে ভাগ করলে)৳৮০ – ১৫০
- দুপুরের খাবার৳১২০ – ২০০
সতর্কতা
- সাঁতার না জানলে গভীর পানিতে নামবেন না। পানির নিচে পাথর আর বর্ষায় প্রবল স্রোত থাকে। লাইফ জ্যাকেট পরুন।
- সীমানা পার হবেন না। এখানে সীমানা সবসময় চিহ্নিত নয়। বিজিবির নির্দেশনা মেনে চলুন।
- সন্ধ্যা ৬টার আগে ফিরে আসুন। এর পর সেখানে পর্যটকদের থাকা নিষেধ, বিজিবি তা নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৌকায় ওঠার আগে ভাড়া ঠিক করুন। রিজার্ভ নৌকায় আসা-যাওয়া আর অপেক্ষার সময় আগেই কথা বলে নিন।
- পাথর পিচ্ছিল থাকে। গ্রিপওয়ালা স্যান্ডেল বা জুতা নিন, দলবেঁধে ঘুরুন।
থাকা ও খাওয়া
বিছনাকান্দিতে থাকার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে, সবাই সিলেট শহরে থেকে দিনে দিনে ঘুরে আসেন। মূল পয়েন্টে ভাসমান খাবারের দোকান আর হাদারপার বাজারে খাবারের হোটেল আছে।
সাধারণ প্রশ্ন
বিছনাকান্দি কোথায়?
গোয়াইনঘাট, সিলেট। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩০ কিমি।
সিলেট শহর থেকে বিছনাকান্দি যেতে কত সময় লাগে?
২.৫ – ৩ ঘণ্টা (নৌকাসহ)।
বিছনাকান্দি-এ প্রবেশ ফি আছে?
না, বিছনাকান্দি-এ ঢুকতে কোনো ফি লাগে না।
বিছনাকান্দি যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কখন?
জুন – সেপ্টেম্বর। পাহাড় থেকে পানি নামে সবচেয়ে বেশি, ঝর্ণা আর সবুজে বিছনাকান্দির আসল রূপ দেখা যায়। তবে স্রোতও এ সময় প্রবল।
বিছনাকান্দি ঘুরতে কত টাকা লাগে?
সিলেট থেকে, জনপ্রতি আনুমানিক ৳৪৫০ – ৭০০।
শুকনো মৌসুমে গেলে কেমন লাগবে?
শীতে পানি কমে যায় এবং পাথর তোলার কাজ চলে, তাই সৌন্দর্য অনেক কম থাকে। বর্ষায় যাওয়াই ভালো।
তথ্য ভুল? জানানইমেইলে জানালে আমরা যাচাই করে ঠিক করি
ভাড়া, ফি ও সময় মৌসুমভেদে বদলায়। যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।
