নামজারি / ই-মিউটেশন
Land Mutation (e-Namjari)
জমি কেনা, উত্তরাধিকার বা দানের পর খতিয়ানে নিজের নাম তুলতে অনলাইনে নামজারির আবেদন। আবেদন, ফি জমা ও অগ্রগতি দেখা সবই mutation.land.gov.bd থেকে করা যায়।
আবেদনের ধাপ
- ১পোর্টালে যানmutation.land.gov.bd-তে গিয়ে আবেদন শুরু করুন
- ২মালিকানার সূত্র বাছাইক্রয়, উত্তরাধিকার, দান, ডিক্রি, নিলাম ইত্যাদির মধ্য থেকে নিজের সূত্র বেছে নিন
- ৩জমির অবস্থান ও নম্বরবিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা বাছাই করে খতিয়ান ও দাগ নম্বর দিন
- ৪আবেদনকারীর তথ্যছবি, স্বাক্ষর ও পরিচয়ের কাগজ আপলোড করুন
- ৫মালিকানার কাগজ আপলোডদলিল বা আদালতের আদেশ পিডিএফ করে দিন; প্রতিটি ফাইল সর্বোচ্চ ১.২৫ এমবি, মোট ২৫ এমবি
- ৬ঘোষণা ও ৭০ টাকা জমাঘোষণায় স্বাক্ষর করে আবেদন জমা দিন এবং কোর্ট ফি ও নোটিশ ফি বাবদ ৭০ টাকা অনলাইনে দিন; আবেদন নম্বর রেখে দিন, এ দিয়ে অগ্রগতি দেখা যায়
- ৭তদন্ত ও শুনানিজমির তদন্ত হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিবেদন দেখেন এবং সব পক্ষকে নিয়ে শুনানি হয়; সহজ মামলায় অনলাইনে শুনানির সুযোগ আছে (oh.lams.gov.bd)
- ৮অনুমোদন ও ১,১০০ টাকা জমাআবেদন অনুমোদন হলে এসএমএস আসে; তখন ১,১০০ টাকা অনলাইনে (বিকাশ, রকেট, নগদ, কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং) দিন
- ৯খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহফি দেওয়ার পর কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল ডিসিআর ও নতুন খতিয়ান পাওয়া যায়; পুরনো মালিকের নাম বাদ গিয়ে আপনার নাম ওঠে
ফি
- আবেদনের সময় (কোর্ট ফি ২০ + নোটিশ জারি ফি ৫০)৭০ টাকা
- অনুমোদনের পর (রেকর্ড হালনাগাদ ও খতিয়ান/ডিসিআর)১,১০০ টাকা
- মোট১,১৭০ টাকা
১,১০০ ও ১,১৭০ টাকা একই ফির দুই অংশ, আলাদা ফি নয়: আবেদনের সময় ৭০ টাকা, অনুমোদনের পর ১,১০০ টাকা, মোট ১,১৭০ টাকা। কিছু প্রতিবেদনে শুধু ১,১০০ টাকার অংশটি আলাদা করে লেখা হয়েছে, তাই সূত্রভেদে ভিন্ন; পোর্টালে দেখুন। নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ বাড়তি টাকা চাইলে তা বেআইনি।
কারা আবেদন করতে পারবেন
- জমির মালিকানা অর্জনের সূত্র থাকতে হবে, যেমন ক্রয়, উত্তরাধিকার, দান, আদালতের ডিক্রি বা নিলাম
যে কাগজপত্র লাগবে
- আবেদনকারীর ছবি ও স্বাক্ষর
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ
- খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মৌজা ও জেলার তথ্য
- মালিকানার প্রমাণ: দলিল, ওয়ারিশ সনদ বা আদালতের আদেশ (যেটি প্রযোজ্য)
- সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের রসিদ
- মোবাইল নম্বর
যা মনে রাখবেন
- ২০২২ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু কাগজ বা তথ্যের ঘাটতির কারণে নামজারি আবেদন নামঞ্জুর করা যাবে না; কাগজ জমার জন্য সাত কর্মদিবস বা যুক্তিসংগত সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হার্ডকপি জমা না দেওয়া, এনআইডির সঙ্গে নামের গরমিল, ভুল ফোন নম্বর বা সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলার কারণে আবেদন বাতিল করা যাবে না।
- ফি অনলাইনে দিতে হয়; ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে নগদ নেওয়া বন্ধ হয়েছে। ডিসিআর ও খতিয়ানের ভুল সংশোধনে কোনো ফি লাগে না।
- ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে নামজারি এক মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গড়ে ৪৩ দিন লাগছে বলা হয়েছিল; তাই আবেদন নম্বর দিয়ে নিয়মিত অবস্থা দেখুন।
- ২০২৪ সালের শেষে সফটওয়্যার হালনাগাদের পর নামজারি ও খাজনা সেবায় সাময়িক সমস্যার খবর এসেছিল; পোর্টাল না চললে ১৬১২২ নম্বরে জানান।
হেল্পলাইন
সেবাটি সম্পর্কে
নামজারি বা মিউটেশন হলো সরকারি ভূমি রেকর্ডে জমির মালিকের নাম বদলের প্রক্রিয়া। নামজারির পর নতুন খতিয়ান তৈরি হয় এবং এর ভিত্তিতে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দিতে হয়।
সাধারণ প্রশ্ন
নামজারি / ই-মিউটেশন পেতে কত সময় লাগে?
ই-নামজারিতে সাধারণত ২৮ দিনের লক্ষ্য; নির্ধারিত সময় মহানগরে ৪৫ কর্মদিবস, অন্যত্র ৩০ কর্মদিবস।
অনলাইনে আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ, অফিসিয়াল পোর্টাল mutation.land.gov.bd/-এ।
কী কী কাগজপত্র লাগবে?
আবেদনকারীর ছবি ও স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মৌজা ও জেলার তথ্য, মালিকানার প্রমাণ: দলিল, ওয়ারিশ সনদ বা আদালতের আদেশ (যেটি প্রযোজ্য), সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের রসিদ, মোবাইল নম্বর।
নামজারির মোট ফি কত, ১,১০০ না ১,১৭০ টাকা?
মোট ১,১৭০ টাকা। আবেদনের সময় ৭০ টাকা (কোর্ট ফি ২০ ও নোটিশ ফি ৫০) এবং অনুমোদনের পর ১,১০০ টাকা। ১,১০০ টাকা শুধু দ্বিতীয় অংশ। পুরনো প্রতিবেদনে এই ১,১০০ টাকাকে রেকর্ড সংশোধন ১,০০০ ও খতিয়ান সরবরাহ ১০০ টাকা ধরে দেখানো হয়েছে।
নামজারি হতে কত দিন লাগে?
ই-নামজারিতে লক্ষ্য ২৮ দিন। নির্ধারিত সময় মহানগরে ৪৫ কর্মদিবস ও অন্যত্র ৩০ কর্মদিবস। বাস্তবে এর চেয়ে বেশি লাগার খবরও আছে।
নামজারির পর কি খাজনা দিতে হয়?
হ্যাঁ, ভূমি উন্নয়ন কর অনলাইনে দেওয়া যায়। land.gov.bd বা lsg-land-owner.land.gov.bd/register-এ নিবন্ধন করে খতিয়ান ও দাগের তথ্য দিয়ে নগদ, বিকাশ, রকেট, কার্ড বা সোনালী ব্যাংক গেটওয়েতে দিলে অনলাইন দাখিলা পাওয়া যায়। এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও খতিয়ান/হোল্ডিং নম্বর লাগে।
সাহায্যের জন্য কোথায় ফোন করব?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে দেওয়া হেল্পলাইন ১৬১২২।
তথ্য ভুল? জানানইমেইলে জানালে আমরা যাচাই করে ঠিক করি
এই তথ্য সংবাদ ও গাইড থেকে নেওয়া, সরকারি ঘোষণা নয়। ফি ও নিয়ম বদলায়, আবেদনের আগে অফিসিয়াল পোর্টালে মিলিয়ে নিন।
